আমরা সবাই পরীক্ষার্থী! লুৎফর রহমান ফরায়জী।
আমরা সবাই পরীক্ষার্থী!
দুনিয়াটা পরীক্ষার হল। পরীক্ষার্থী সকল মানুষ। পরীক্ষার ধরণ দুইটা। এক হল, ধৈর্যের পরীক্ষা। আরেক হল শুকরিয়ার পরীক্ষা।
ধৈর্যের পরীক্ষা!
দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ, অভাব-অনটন ও মুসিবতে থাকলে ধৈর্যধারণ করা। রব্বে কারীমের প্রতি বিতৃষ্ণ না হওয়া।
আখেরাতে উত্তম বদলা পাবার আশা রাখা। রব্বে কারীমের দয়া ও অনুগ্রহের আশা রাখা। আশাহত না হওয়া। আল্লাহর উপর অভিযোগ না করা। চেষ্টা-মেহনত ও দুআ জারী রাখা।
এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াটা কঠিন।
আমরা প্রায়ই হতাশ হয়ে পড়ি। কখনো কখনো কুফরী কথাও জবান দিয়ে বের করে ফেলি। আশে পাশে তাকিয়ে অন্যদের সুখময় জীবন দেখে হিংসা করি। অহেতুক নিজেকে মানসিক কষ্টে ফেলি। ইবাদত বাড়ানো উচিত, তবু দারিদ্রতা ও অসহায়ত্বের অযুহাতে ইবাদত ছেড়ে দেই বা কমিয়ে দেই। শেষ রাতের দুআর ইহতিমাম বর্জন করি। "সুখী হলে ইবাদত করবো" বলে মিথ্যা প্রবঞ্চনায় ভুগি।
এভাবেই আমরা এ কঠিন পরীক্ষায় ফেল করতে থাকি।
শুকরিয়ার পরীক্ষা!
আমি মনে করি শুকরিয়ার পরীক্ষাটা ধৈর্যের পরীক্ষার চেয়ে কঠিন।
সম্পদের প্রাচুর্য। খ্যাতির জৌলস যখন আকাশচুম্বি হয়। সমাজের চোখে ইজ্জত যখন বেড়ে যায়। তখন শুকরিয়ায় নত হওয়া বড্ড কঠিন পরীক্ষা।
শুকরিয়াকে আমরা শুধুই প্রথাগত এক বাক্যে পরিণত করেছি। মুখে মুখে বলি শুকরিয়া আল্লাহর। কিন্তু কাজে ও কথায় বুঝাই, এসব কিছুই আমার যোগ্যতাবলে অর্জিত। আমার নিজস্ব কামাই। আমার মেহনতে তা অর্জন করেছি। নাউজুবিল্লাহ।
ইবাদতের পাবন্দী কমে যায়। শেষ রাতের তাহাজ্জুদের কান্না ভুলে যাই। বিপদের সময় যে গোনাহ ত্যাগ করেছিলাম, সেসব গোনাহেও লিপ্ত হবার দুঃসাহস দেখাতে থাকি। অহংকার, আত্মম্ভরিতা, অন্যকে হেয় করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা ইত্যাদি রোগ বাসা বাঁধে আমাদের অন্তরে।
দামি গাড়িতে চড়ে, নজরকাড়া বিল্ডিংয়ের এসি রুমে ঘুমিয়ে আয়েশে কাটে জীবন। ভুলে যাই এসব কিছুই রব্বে কারীমের কেবল অনুগ্রহের কারণেই অর্জিত হয়েছে।
এ জীবনে সুখে থাকা মানেই অনন্ত আখেরাতের জীবনে সুখী হওয়া নয়। এ জীবনে বিপদে আপদে কাটালেও আখেরাতের জীবনে সুখময় করতে পারার নামই সফলতা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের ধৈর্য ও শুকরিয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করুন। আখেরাতের অনন্ত জীবনের সম্বল সংগ্রহের তৌফিক দান করুন। আমীন। ছুম্মা আমীন।
No comments